Dailyreport Live
Dailyreport Live
Wednesday, 10 Jun 2026 00:00 am
Dailyreport Live

Dailyreport Live

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:

প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি করে জমানো টাকা দিয়ে দেশে ফিরে সুন্দর একটি সংসার সাজানোর স্বপ্ন ছিল কুয়েত প্রবাসী এক যুবকের। কিন্তু সেই স্বপ্নকে পুঁজি করেই প্রেমের ফাঁদ পাতে এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। প্রেমের অভিনয় আর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই প্রবাসীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক মা ও মেয়ের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্তরা সাধারণ কেউ নন; তারা হলেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১নং অষ্টাধার ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার এবং তাদের মেয়ে রাফিনা ইসলাম রিয়া। এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

জানা যায়, জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার জোনাইল পক্ষীমারি গ্রামের এক যুবক জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে কাতারে অবস্থান করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পরিচয় হয় ময়মনসিংহের ইউপি মেম্বার কন্যা রাফিনা ইসলাম রিয়ার সাথে। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রিয়া দেশে ফেরার পর ওই যুবককে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

সম্পর্ক কিছুটা গভীর হলে রিয়া তার মা তাসলিমা আক্তারের সাথে ওই প্রবাসী যুবকের পরিচয় করিয়ে দেয়। এরপর থেকেই শুরু হয় মা-মেয়ের আসল খেলা। কখনো অসুস্থতার ভান করে, কখনো কেনাকাটা বা পারিবারিক বিপদের অজুহাত দেখিয়ে কাতার প্রবাসী ওই যুবকের কাছ থেকে ধাপে ধাপে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতে থাকে তারা।

বিয়ের আশায় ওই যুবক সরল বিশ্বাসে তাদের টাকা দিতে থাকেন। কিন্তু একপর্যায়ে সন্দেহ হলে এবং নিজের জমানো টাকা শেষ হয়ে আসায় ওই যুবক টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেন। টাকা দেওয়া বন্ধ করার পরপরই রিয়ার আচরণ বদলে যায় এবং সে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

পরবর্তীতে ওই প্রবাসী যুবক অন্য মাধ্যমে রিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে, রিয়া সরাসরি জানিয়ে দেয় যে সে তাকে বিয়ে করবে না। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই যুবক তার পাঠানো ১১ লাখ টাকা ফেরত চান। কিন্তু টাকা ফেরত দেওয়ার বদলে উল্টো নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রবাসীকে ফাঁসানোর হুমকি দেয় চতুর রিয়া ও তার পরিবার।

টাকা উদ্ধারে মরিয়া হয়ে প্রবাসী যুবক যখন মেম্বারের বাড়িতে লোকজন পাঠানোর কথা জানান, তখন পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি করে মেম্বার পরিবার মাত্র ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ভুক্তভোগী যুবকের দাবি, তার কাছ থেকে নেওয়া বাকি প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকা তারা এখনো আত্মসাৎ করে রেখেছে।

ইউপি মেম্বারের পরিবারের এমন প্রতারণায় হতবাক এলাকাবাসী। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, এই ঘটনাটি নতুন কিছু নয়। প্রবাসীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা হাতানো এই মা-মেয়ের পুরনো ‘পেশা’। এর আগেও একাধিক প্রবাসীর সাথে প্রেমের নাটক করে তারা মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মেম্বারের পরিবার হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।

প্রবাসে ঘাম ঝরানো টাকা খুইয়ে ওই যুবক এখন দিশেহারা। তিনি এই প্রতারক মা-মেয়ে ও তাদের মদদদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে তার আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হলে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

Your application license has expired!
Contact bdtask.com