- রিপোর্টারঃ desk report
- প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল , ২০২৬
স্টাফ রির্পোটারঃ
বদলে যাচ্ছে বিএনপির মাঠের চিত্র। আর্বিভাব ঘটছে হাইব্রিডদের। আন্দোলনের মাঠে ছিলেন না, মামলা-হামলা কিংবা নির্যাতনের মুখেও ছিলেন না, ঘরছাড়াও হতে হয়নি। বিগত দিনে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন, তাল মিলিয়ে চলেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে। তারাই এখন বিএনপির দাপুটে ‘হর্তাকর্তা’। তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছেন নব্য বিএনপি নামধারী অনেকে। যারা কখনোই বিএনপিতে সম্পৃক্ত ছিলেন না, তারাই এখন নানা জায়গায় দখল পর্বে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আবার তারাই এখন তৃণমূলের ত্যাগীদের ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছেন।
দলীয় কার্যালয় ছাড়াও বিভিন্ন সড়কের অলিগলিতে এখন তাদের ব্যানার, পোস্টার শোভা পাচ্ছে। বিভিন্ন নেতার বাসাবাড়ি কিংবা অফিসে এসব নেতার পদচারণাও বাড়ছে। ভিড় করছেন বিভিন্ন লবিং-তদবির নিয়ে। অন্যদিকে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যেসব নেতাকর্মী রাজপথে ছিলেন, মামলা-হামলায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, ঘরছাড়া হয়েছেন, তারা এখন ‘অসহায়’।
ময়মনসিংহ সদর উপজেলা ঘাগড়া ইউনিয়নের কৃতি সন্তান ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মামুন মন্ডল যিনি দলের দূসময়ে ছিলেন রাজপথে, তার এই অকুভয় সাহসের কারণে বিএনপির বিভিন্ন মহলের প্রশংসাও কুড়িয়েছেন।বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দলের জন্য কাজ করায় তার নামে হয়েছে গায়েবি মামলা। যার ফলে তাকে থাকতে হয়েছে ঘড় বাড়ি পরিবার ছাড়া। এমনিকি তার ব্যবসায় পড়ে ছিল বিগত সরকারের গুন্ডা বাহিনীর তান্ডব,
তারপরও ছিলেন আর্দশের প্রতি অবিচল,কিছুদিন পরে রোড এক্সিডেন্ট পায়ে আঘাত পেয়ে ভেঙে যায় পা,নেমে আসে জীবনে আরো অন্ধকারে ছায়া,তবুও জাতীয়বাদী দলের আদর্শকে বুকে ধারণ করে থেকেছেন রাজপথে। মিথ্যা গায়েবি মামলা নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানালে নেমে আসে তাদের উপর আরো জলুম অত্যাচার, তাকে ভাঙা পা নিয়ে হাজির হতে আদালত প্রাঙ্গনে, তখনকার আদালতে দায়িত্ব থাকা কর্মকর্তা তাকে আদালতের লিফট টা পর্যন্ত ব্যবহার না করতে দিয়ে সিঁড়িতে তুলেন এজলাসে।
গায়েবি মামলায় থাকতে হয় জেলখানায় মাসের পর মাস। এত মামলা হামলা দিয়ে দাবিয়ে রাখতে পারেনি মামুন মন্ডলকে।
মামুন মন্ডল বলেন,বিএনপির আদর্শের রাজনীতিতে অবিচল থাকতে চেষ্টা করেছি সব সময়, জেল জুলুম মামলা হামলা আমাকে দলের আর্দশে থেকে এক চুল ও সড়াতে পারে নাই। অনেকে গুম হয়েছেন, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। দলের এমন কোনো নেতাকর্মী নেই, যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। অনেকের বিরুদ্ধে মামলার তিন সেঞ্চুরিও পার হয়েছে বিগত দিনে। এসব মামলায় সর্বস্বান্ত হয়েছি আমরা। অনেকের সহায়-সম্পদ দখল করা হয়েছে, অনেককে ঘরবাড়ি ছাড়া হতে হয়েছে। তবে যেসব নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেছেন, তারা ছিলেন বহাল তবিয়তে। ওই সময়ে তারা নিজেদের মতো করে ব্যবসা করেছেন, নিরাপদে থেকেছেন। কোনো নির্যাতন তাদের স্পর্শ করতে পারেনি। এখন বিএনপির সুদিন এখন অনেক হাইব্রিড নেতা জুটতে শুরু করেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনেক সুবিধাভোগী খোলস পরিবর্তন করে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে চাচ্ছেন। এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা থাকলেও বিভিন্ন কায়দা-কানুন করে দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে আখের গোছানোর চেষ্টা করছেন।আমরা চাই দলের দূসময়ে যেসকল নেতা কর্মী রাজপথে ছিলেন তাদের যেন মূল্যায়ন করা হয়।

